দেশের অন্যতম ইলেকট্রনিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক কিউ-ক্যাশের (Q-Cash) সিস্টেম মাইগ্রেশনের পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায়। তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয়েছে নেটওয়ার্কটির আওতাধীন প্রায় ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও ডিজিটাল লেনদেন সেবা।

গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে কিউ-ক্যাশের সিস্টেম মাইগ্রেশন ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিভিন্ন ব্যাংকের লেনদেন সেবা ব্যাহত হতে শুরু করে। শুরুতে গ্রাহকদের জানানো হয়েছিল, ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকতে পারে। তবে ৬ অক্টোবর রাতেই সেবাগুলো পুনরায় চালু করা হয়।

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনে কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ, আন্তব্যাংক অর্থ স্থানান্তর এবং ই-কমার্স লেনদেনের সুবিধা দিয়ে থাকে।

হঠাৎ সিস্টেম পরিবর্তনের কারণে এসব সেবায় বিঘ্ন ঘটায় বিপাকে পড়েন বিপুলসংখ্যক গ্রাহক। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে না পারা এবং কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা করতে গিয়ে লেনদেন ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৩টি বলা হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকের গ্রাহকরা সমস্যায় পড়েন।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কিউ-ক্যাশ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির (আইটিসি) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত কার্ড-সংক্রান্ত লেনদেন, এটিএম ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) আওতাধীন সেবাগুলো সচল করার নির্দেশ দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সমস্যার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কিউ-ক্যাশের সার্ভার মাইগ্রেশন মূলত ২৮ অক্টোবর করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই জরুরিভিত্তিতে মাইগ্রেশন শুরু করতে হয়।

পরে ৬ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সেবা পুনরায় চালু হয়। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের এসএমএস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেবা সচল হওয়ার বিষয়টি জানায়।

এটিএম, কার্ড, পিওএস, ই-কমার্স, কিউআর পেমেন্ট এবং এনপিএসবি-ভিত্তিক অর্থ স্থানান্তর সেবা পুনরায় চালু হওয়ার ফলে গ্রাহকরা স্বাভাবিকভাবে লেনদেনের সুযোগ পান।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, কিউ-ক্যাশের সমস্যার সময়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি সংযুক্ত অন্যান্য পেমেন্ট ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল। বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন), রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট লেনদেন ব্যবস্থায় সমস্যা হয়নি।

এই ঘটনায় ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সময়মতো অবহিত করা এবং গ্রাহকদের বিকল্প লেনদেনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।