আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আলোচনা করবে বাংলাদেশ। সম্ভাব্য ঋণের পরিমাণ ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে। তবে ঋণের অঙ্কের চেয়েও আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পেতে পারে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি কমানো, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা।
আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে IMF ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা। এই আয়োজনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংস্থাটির একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নতুন ঋণের আকার, মেয়াদ এবং সম্ভাব্য সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশের IMF কোটা অনুযায়ী নতুন কর্মসূচিতে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কত অর্থ পাওয়া যাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঋণের পরিমাণ নির্ভর করবে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির ওপর।
নতুন আলোচনায় আগের ঋণ কর্মসূচির অসম্পূর্ণ সংস্কারগুলোও ফিরে আসতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা দূর করা, খেলাপি ঋণের সমস্যা মোকাবিলা এবং ব্যাংকিং খাতের তদারকি শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোও আলোচনার অন্যতম বিষয়। কর সংগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা আগে জানিয়েছে IMF। তবে এসব সংস্কার কীভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা এখনো বাকি।
গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফর করে IMF-এর একটি প্রতিনিধিদল। সফর শেষে সংস্থাটি জানায়, দেশের ব্যাংকিং খাতে চাপ, সীমিত রাজস্ব আয় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আমদানি ও জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ২০২৩ সালে IMF-এর সঙ্গে একটি ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার আগের কর্মসূচির কিছু শর্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নতুন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়। গত জুনে নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করে IMF।
এদিকে নতুন ঋণ নিয়ে সরকারের অবস্থানেও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার আন্তর্জাতিক ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন IMF কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।
ব্যাংককের বৈঠকে ঋণের সম্ভাব্য শর্ত নিয়ে অগ্রগতি হলেও সেখানেই চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বিস্তারিত সমঝোতার পর IMF-এর নির্বাহী পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ফলে আগামী সপ্তাহের আলোচনা থেকেই স্পষ্ট হতে পারে, নতুন ঋণ নিতে বাংলাদেশকে কোন কোন সংস্কারে সম্মত হতে হবে।




