বাগেরহাট ও খুলনা সফরের পথে গাড়ি থামিয়ে স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে দেখতে পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। ব্যস্ত সফরসূচির মধ্যেও শিশু-কিশোরদের সঙ্গে তাঁর এই সময় কাটানোর মুহূর্তটি নজর কেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক দিনের সরকারি সফরে বাগেরহাট ও খুলনা যান প্রধানমন্ত্রী। সফরের শুরুতে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে ঢাকার পুরোনো তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার মোংলা বন্দরের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সফরের পথে স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্যটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। গাড়ি থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা ও তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখতে পেয়ে তারা আনন্দ প্রকাশ করে। তবে এই ঘটনাটি ঠিক কোন স্থানে ঘটেছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মোংলা বন্দরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার পরিবহন ও পণ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

মোংলার কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাট জেলা সদরে যান। সেখানে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। ৫ নভেম্বর তাঁর এই সফর ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মাজারটিতে প্রথম আগমন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজারের খাদেম তাঁকে স্বাগত জানান।

এরপর সড়কপথে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। পথে বিভিন্ন এলাকায় তাঁকে দেখতে স্থানীয় মানুষ ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। খুলনা সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যান তিনি।

সেখানে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়াপ্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন। দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এই আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট ও খুলনা সফরে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, বিনিয়োগ সহযোগিতা, ধর্মীয় স্থাপনা পরিদর্শন এবং নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াপ্রতিভা বিকাশের মতো একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যেই পথে স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর শুভেচ্ছা বিনিময়ের মুহূর্তটি সফরের একটি মানবিক দৃশ্য হিসেবে সামনে এসেছে।