১৬৬ দিন পর দুদকে নতুন নেতৃত্ব, চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সময় শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকার পর পুনর্গঠন করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক। সংস্থাটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।

একই সঙ্গে নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া। ১৭ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির দেওয়া নিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৬(১) ধারার অধীনে তিনজনকে প্রথমে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর একই আইনের ৫(১) ধারার আওতায় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান এর আগে হাইকোর্ট বিভাগ ও পরে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন।

অন্য দুই সদস্যের একজন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান সরকারের সাবেক সচিব। আর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। পরে তিনি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আইন অনুযায়ী নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন। দুদক চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের বেতন, ভাতা ও মর্যাদা পাবেন। অন্য দুই কমিশনারের সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা হবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমতুল্য।

এর আগে গত ৩ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন। এরপর টানা ১৬৬ দিন কমিশনের শীর্ষ তিন পদই খালি ছিল।

এই দীর্ঘ শূন্যতায় নতুন অনুসন্ধান অনুমোদন, মামলা দায়ের, চার্জশিট অনুমোদন, সম্পদ জব্দ কিংবা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে দুদকে অভিযোগ, অনুসন্ধান ও তদন্তের একটি উল্লেখযোগ্য backlog জমেছে।

নতুন নেতৃত্বের জন্য এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে কার্যক্রমে গতি আনা। একই সঙ্গে বড় দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবের বাইরে কমিশনের স্বাধীনতা ধরে রাখার বিষয়টিও নতুন কমিশনের কার্যকারিতা মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড হয়ে উঠবে।