শিক্ষার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী ঢাকায় প্রথমবারের মতো মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছে ডাঃ মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন। ৬ নভেম্বর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (CUB) কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন ফাউন্ডেশনের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ গোলাম মর্তুজা (সিআইপি)। এ সময় তিনি পরীক্ষার পরিবেশ ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। ঢাকায় প্রথমবারের মতো এ আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষ করে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

গোলাম মর্তুজা বলেন, ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের অন্যতম লক্ষ্য হলো শূন্য নিরক্ষরতা অর্জন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়ার মাধ্যমে এ উদ্যোগকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চান তাঁরা।

তিনি জানান, ঢাকায় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য এর আগে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। তবে এবার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি তাঁদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে একজন নারী শিক্ষক শুক্রবারের ছুটির দিনেও নিজের পারিবারিক সময় ব্যয় করে ফাউন্ডেশনের কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করেন গোলাম মর্তুজা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দিতে চান তাঁরা। যেসব শিশু ও শিক্ষার্থী আর্থিক অসচ্ছলতা কিংবা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেধাবীদের খুঁজে বের করে তাদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে চান তাঁরা।

গোলাম মর্তুজার মতে, মানুষকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষা মানুষের চিন্তা, বিবেচনা ও জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু বৃত্তি প্রদান নয়, শিক্ষার আলো সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ফাউন্ডেশনের এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নিজের বক্তব্যে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘এই মাটি থেকেই আমাদের জন্ম। এই মাটির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা সবচেয়ে বেশি।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার তাঁকে তিনবার সিআইপি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ৬৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অবদান রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশে ও দেশের বাইরে মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে গোলাম মর্তুজা বলেন, মানুষের প্রয়োজন যেখানে, সেখানেই সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা তাঁদের। ডাঃ মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষাকে তিনি সেই বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।