সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্য প্রধান শিক্ষক পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটি। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান কঠোরভাবে তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা প্রধান শিক্ষক পদ দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম এবং শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে কোনো বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে।

কমিটি শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি দেশের যেসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব এলাকায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠকে শিশুদের পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান নিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারির সুপারিশ করা হয়েছে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখার লক্ষ্য রয়েছে। তাই কর্মসূচির খাবারের গুণগত মান, পুষ্টিমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

কমিটি কর্মসূচির বাস্তবায়ন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও মান যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যক্রমও যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো ও শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান বিদ্যালয়গুলোর প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শেখার সক্ষমতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে শুধু খাবার বিতরণের কার্যক্রম হিসেবে না দেখে এর মান ও কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শূন্য প্রধান শিক্ষক পদ পূরণ, নতুন বিদ্যালয় স্থাপন এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মান নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি বিষয়ই প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সংসদীয় কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে বিদ্যালয় পরিচালনা ও শিশুদের শিক্ষা পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।