২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের পর প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশ পরিমার্জন করে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বইটির ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তর হিসেবে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখানো হয়েছে। পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তরে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসার পর সমালোচনা শুরু হয়। দাঁড়িপাল্লা বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক হওয়ায় পাঠ্যবইয়ে এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বই সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হবে। এ জন্য আপাতত বই ছাপানোর কাজ বন্ধ রাখা এবং সরবরাহ করা কপিগুলো সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

২৫ অক্টোবর প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ বই ফেরত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে সংশোধিত বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সরবরাহের লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব বই সংগ্রহ, সংশোধন ও পুনরায় বিতরণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। 

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর বড় অংশের মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজ ইতিমধ্যে এগিয়েছে। ফলে বই ফেরত এনে সংশোধন করলে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। মুদ্রণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

উল্লেখ্য, এখানে মূল বিষয়টি কোনো শব্দের বানান বা পরিভাষাগত ভুল নয়; বরং ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে ব্যবহৃত প্রতীক নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক। প্রজ্ঞার জন্য একটিমাত্র সর্বজনস্বীকৃত প্রতীক নেই। তাই পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত চিত্রটি শিক্ষার্থীদের কাছে ধারণাটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে কি না, সেটিও পর্যালোচনার বিষয়।

নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে সংশোধিত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ। বই সংগ্রহ ও পুনর্মুদ্রণের অগ্রগতি, চূড়ান্তভাবে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে এবং সংশোধিত কপি সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে এনসিটিবির আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।