সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে দেশের সব শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে খাবারের মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা।

প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেন কমিটির সদস্যরা। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পাঠদানের পরিবেশের বিষয়েও আলোচনা হয়।

চলমান স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের গুণগত মান ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। খাবারের নির্ধারিত মান বজায় না থাকলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

দেশের সব শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, সেখানে নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের বাজেট ও ব্যয় পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের কার্যক্রম।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসব প্রতিষ্ঠানের খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার এবং নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে কমিটির সদস্যদের সরেজমিনে পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে এসব পরিদর্শন করার কথা বলা হয়, যাতে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ সরাসরি দেখা যায়।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানেরাও অংশ নেন।

তবে প্রধান শিক্ষকের কতটি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে কিংবা কত দিনের মধ্যে সেগুলো পূরণ করা হবে, সে বিষয়ে বৈঠকের প্রকাশিত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা সময়সীমা জানানো হয়নি। সংসদীয় কমিটি দ্রুত নিয়োগের সুপারিশ করলেও বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।