ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাঁর সামনে একটি বোতল দেখা যাওয়ার পর মদ্যপ অবস্থায় এমন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মদ্যপ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযুক্ত সানোয়ার মাস্টার আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া মোল্লা মার্কেট এলাকার সালেহা ইদ্রিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভিডিওতে কী দেখা গেছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি কক্ষে স্যান্ডো গেঞ্জি পরা অবস্থায় সানোয়ার মাস্টারকে নাচতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে লুঙ্গি ও ফতুয়া পরা এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিও নাচছিলেন। তাঁদের সামনে টেবিলে একটি বোতল রাখা ছিল।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কয়েকজন অভিভাবকও এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যা বললেন অভিযুক্ত শিক্ষক

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সানোয়ার মাস্টার জানান, ভিডিওটি প্রায় ছয় মাস আগের। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কক্ষে একটি অফিস ছিল এবং সেখানে তিনি এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে মজা করে নাচছিলেন।

ভিডিওতে সামনে বোতল রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, কে বা কারা সেটি সামনে রেখে ভিডিও ধারণ করেছেন, তা তিনি জানেন না। মদ্যপ অবস্থায় নাচার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সঙ্গে থাকা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি তাঁর দাদার মতো সম্পর্কের।

তবে ভিডিওটি ঠিক কোথায় ধারণ করা হয়েছিল, এর পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট কী এবং বোতলে কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তের কথা জানাল শিক্ষা প্রশাসন

সাভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, ভিডিওটির বিষয়ে তিনি প্রথমে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই জানতে পেরেছেন। অভিযোগের সত্যতা থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে ভিডিওটির সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের ফলের অপেক্ষা

একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা তাতে দৃশ্যমান কোনো বস্তুর ভিত্তিতে মদ্যপানের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের স্থান ও সময় এবং ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। এখন শিক্ষা প্রশাসনের তদন্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।