দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ৩১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১৫৮ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলারে।
এর আগের দিন বুধবার (৭ অক্টোবর) মোট রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের দায় মেটানো এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার জোগান নিশ্চিত করতে রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে গ্রস রিজার্ভ এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে প্রকাশিত রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গ্রস রিজার্ভ বলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ সম্পদ বোঝানো হয়। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্দিষ্ট সম্পদ ও দায়ের হিসাব বিবেচনা করা হয়। ফলে এ পদ্ধতিতে প্রকাশিত রিজার্ভের পরিমাণ সাধারণত তুলনামূলক কম হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে দুই পদ্ধতিতেই রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করে। তবে বিপিএম-৬ রিজার্ভকে সরাসরি সম্পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য বা নিট রিজার্ভ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। নিট রিজার্ভ নির্ধারণে আরও কিছু স্বল্পমেয়াদি দায় ও সমন্বয়ের বিষয় হিসাব করতে হয়।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়েও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৮ দশমিক ৯৭৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৭২৬ বিলিয়ন ডলার।
সে হিসাবে আলোচ্য সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু অক্টোবরের প্রথম চার দিনেই দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে রিজার্ভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ধরে রাখতে রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সামগ্রিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ হিসাবে উভয় পদ্ধতিতে রিজার্ভ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়াকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সামনের দিনগুলোতে এই প্রবণতা কতটা বজায় থাকে, তা নির্ভর করবে বৈদেশিক মুদ্রার আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্যের ওপর।









