দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নভেম্বর মাসের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছে। সেখানে প্রতি লিটারের নতুন দাম ১ দশমিক ১৬৩৭ মার্কিন ডলার।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঘোষিত নতুন দর ওই দিন দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগে অক্টোবর মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। নতুন সিদ্ধান্তে দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য আগের নির্ধারিত দাম ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ১৬৩৭ ডলার করা হয়েছে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য একই সময়ে জেট ফুয়েলের দামে ভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে দাম বাড়লেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য কমেছে। ফলে দেশের বিমান সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ রুটের জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রুটে জ্বালানি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর অক্টোবর মাসের জন্য জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছিল বিইআরসি। তখন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে দাম ১ দশমিক ০৭৭০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার করা হয়েছিল। ওই মূল্যবৃদ্ধির ফলে টানা কয়েক মাস কমার পর আবারও জেট ফুয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়।

জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার এবং জ্বালানি পরিবহনের ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে বিইআরসি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১ জ্বালানির গড় প্ল্যাটস মূল্য এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানি ব্যয়ের হিসাব মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর পাশাপাশি ডিজেলের দামের পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় ট্যাংকার ও ট্যাংক-লরির পরিবহন ব্যয়েও পরিবর্তন এলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় বাংলাদেশেও জেট ফুয়েলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। মার্চ ও এপ্রিলে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কয়েক মাস ধরে দাম কমানো হয়। জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সায় নেমে আসে। তবে আগস্ট থেকে আবার দাম বাড়তে শুরু করে। অক্টোবরের সমন্বয়ে তা ১৮২ টাকা ৭১ পয়সায় পৌঁছায়।

জেট ফুয়েল উড়োজাহাজ পরিচালনার অন্যতম বড় ব্যয়। তাই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে জ্বালানির দাম বাড়লে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে। তবে নতুন মূল্য সমন্বয়ের কারণে যাত্রীদের টিকিটের দাম বাড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলোর সামগ্রিক ব্যয়, যাত্রী চাহিদা, রুটভিত্তিক পরিচালন পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে জেট ফুয়েলের দাম কমানো হলেও যাত্রীদের টিকিটের দাম সরাসরি কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ আন্তর্জাতিক রুটে ভাড়া নির্ধারণে জ্বালানির পাশাপাশি বিমানবন্দর ব্যবহার, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মী, বিমা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও যুক্ত থাকে।

বাংলাদেশে জেট এ-১ জ্বালানির দাম নিয়মিত সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে বিইআরসি। ২০২৫ সালের মে মাসে গণশুনানি ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পর্যালোচনার পর কমিশন জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি চালু করে। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার ও পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে মাসিক ভিত্তিতে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

নভেম্বরের নতুন সিদ্ধান্তে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে জেট ফুয়েলের দাম আরও বাড়ল, যদিও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কমেছে। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীভাড়ায় কী প্রভাব পড়ে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।