দেশে ডেঙ্গুতে আ/ক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে মৃ/ত্যুর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১ অক্টোবর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩০৩ জনের মৃ/ত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯৯ হাজার ২৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী।
রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃ/ত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ দৈনিক রোগী ভর্তির সংখ্যা।
নতুন মৃ/ত্যুর মধ্যে দুজন খুলনা বিভাগে এবং একজন করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৩০ জন, খুলনায় ৩০৪ জন, চট্টগ্রামে ২৯৩ জন, বরিশালে ২৩৬ জন, রাজশাহীতে ১৬০ জন, রংপুরে ৮৪ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন এবং সিলেটে ১৬ জন রয়েছেন।
একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৯৬ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯২ হাজার ৮০৩ জন।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বৃষ্টির পর জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা নিধনের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। বাসাবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে।
পাশাপাশি মশারি ব্যবহার, ঘরের দরজা-জানালায় নেট লাগানো এবং মশার কামড় থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তক্ষরণ কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা উচিত। ডেঙ্গু সন্দেহ হলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও মশার প্রজননস্থল নির্মূলের উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


