আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে পারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত হাসপাতালটিতে এক ছাদের নিচে বিভিন্ন জটিল রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসার পাশাপাশি সমন্বিত জরুরি সেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু করার আশা করছেন তাঁরা। নতুন ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল পরিচালনার জন্য একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, কোম্পানির চেয়ারম্যান থাকবেন বিএমইউর উপাচার্য। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পেতে পারেন একজন উপ-উপাচার্য। পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচালনায় অভিজ্ঞ একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। কোম্পানির ৯০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বাকি ১০ শতাংশ সরকারের।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে পৃথক প্রক্রিয়ায়। যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের চুক্তিতে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসকদের বাইরের প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত চেম্বার করার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসপাতালটি দ্রুত চালু করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। তবে কিছু সংস্কার ও প্রশাসনিক কাজ বাকি থাকায় সব কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। নিয়ম মেনেই নিয়োগ ও অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
৭৫০ শয্যার এই হাসপাতালে হৃদ্রোগ ও মস্তিষ্কের রক্তনালির রোগ, লিভার ও যকৃৎ প্রতিস্থাপন, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, কিডনি ও ইউরোলজি এবং দুর্ঘটনা ও জরুরি চিকিৎসার জন্য পাঁচটি বিশেষায়িত কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ১৪টি অস্ত্রোপচার কক্ষ, ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং ১০০ শয্যার জরুরি বিভাগ।
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ ও থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের আদলে সমন্বিত জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে জরুরি রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা একই প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করা হয়। তবে পৃথক জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এত দিন সীমিত পরিসরে সেবা চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান জনবল ও বাজেট ব্যবহার করেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।
নতুন ব্যবস্থাপনায় পুরো হাসপাতাল চালু হলে দেশে জটিল রোগের চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন কমিয়ে আনার লক্ষ্যও রয়েছে।
তবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নিয়োগ, সংস্কার ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ হওয়ার ওপর হাসপাতালটির সব সেবা চালু হওয়া নির্ভর করছে।
