রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডেও বেড়েছে ভিড়। ২৫ আগস্ট হাসপাতালটির ৪৮ শয্যার বিপরীতে ১২৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। অর্থাৎ নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ।
হাসপাতালটিতে নির্ধারিত সব শয্যাই রোগীতে পূর্ণ থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সেখানে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ২০ আগস্ট ২০ জন, ২১ আগস্ট ৪০ জন, ২২ আগস্ট ৩৬ জন, ২৩ আগস্ট ৩৫ জন এবং ২৪ আগস্ট ৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। ২৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত আরও ২০ জন রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বশীলদের ভাষ্য, জুলাই পর্যন্ত রোগীর চাপ তুলনামূলক কম ছিল। আগস্টে হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় সীমিত শয্যার মধ্যেই অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক রোগী সাধারণত কয়েক দিন হাসপাতালে থাকায় নতুন রোগী ভর্তি হলে শয্যা সংকট আরও বাড়ছে।
মুগদা হাসপাতালে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন। খিলগাঁও, মুগদা, বনশ্রী, টিকাটুলি, মান্ডা, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, মাতুয়াইল, ডেমরা ও জুরাইনসহ আশপাশের এলাকার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঢাকার বাইরে থেকেও কিছু রোগী মুগদা হাসপাতালে আসছেন।
এদিকে শুধু মুগদা হাসপাতাল নয়, সামগ্রিকভাবেই দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৬ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি। চলতি বছর ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৩১ হাজার ৩৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে।
নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪৮ জন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ১০২ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন, খুলনায় ৩৮ জন, রংপুরে ৮ জন, বরিশালে ৬ জন এবং সিলেটে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এর আগে ২৪ আগস্ট এক দিনে ৯৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তিনজনের মৃত্যু হয়। ওই দিনটির রোগী ভর্তির সংখ্যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ ছিল বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে বাসস জানিয়েছে।
ডেঙ্গুর এই বাড়তি চাপের মধ্যে হাসপাতালগুলোতে শয্যা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক ও নার্সদের কাজের চাপ এবং রোগীদের পর্যাপ্ত জায়গায় চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। মুগদা হাসপাতালের পরিস্থিতি রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সাম্প্রতিক বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য অনুযায়ী, রোগীর চাপ এখনো পুরোপুরি কমেনি। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি এডিস মশার বিস্তার রোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



