পদ্মা ব্যাংক বন্ধ বা অবসায়ন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বরং দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে ব্যাংকটিকে আরও সচল ও কার্যকর করতে শেয়ারহোল্ডার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেয়নি। তিনি বিষয়টি জোর দিয়ে স্পষ্ট করেন।
এর আগে রোববার একটি সংবাদপত্রে পদ্মা ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ব্যাংকটির সংকট কাটাতে ব্যর্থতার পর অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে।
তবে ওই খবরের পর বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পদ্মা ব্যাংককে অবসায়নের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকটিকে কীভাবে সমস্যামুক্ত করে আরও গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে শেয়ারহোল্ডার সরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তারা যৌথভাবে কাজ করছে।
গত বৃহস্পতিবার পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ব্যাংকটির সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং কীভাবে কার্যক্রম আরও গতিশীল করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে অবসায়নের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; বরং ব্যাংকটির সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পদ্মা ব্যাংকের বড় সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকট ও আর্থিক দুর্বলতার বিষয়টি সামনে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ব্যাংকটিকে দেশের দুর্বল ঋণদাতাদের তালিকাতেও রাখা হয়েছে।
ব্যাংকটির কার্যক্রম সচল রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোরও বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০১৯ সালে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক তাদের আমানতকে বিনিয়োগে রূপান্তর করে পদ্মা ব্যাংকের শেয়ার নেয়। বর্তমানে এই চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের হাতে পদ্মা ব্যাংকের মোট শেয়ারের প্রায় ৬৮ শতাংশ রয়েছে।
তারল্য সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পদ্মা ব্যাংকে সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কীভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কার্যকর করা যায়, সে লক্ষ্যেই কাজ এগোচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে আপাতত পদ্মা ব্যাংক বন্ধের সম্ভাবনা নাকচ হলেও ব্যাংকটির আর্থিক সংকট যে গুরুতর, তা স্পষ্ট। ফলে সামনে ব্যাংকটির পুনর্গঠন, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন কাঠামো আরও কার্যকর করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন মূল বিষয়।




