সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তাব বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।

লি জে মিয়ং বলেন, বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা মূলত নিয়মিত পরিদর্শন ও হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ক্রমবর্ধমান সাইবার হুমকি মোকাবিলায় এ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই হামলার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কেন্দ্রীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বা টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে বলেন। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে থাকা নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারক ও সমন্বয়ের জন্য শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের এ নির্দেশের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির আর্থিক খাতে একাধিক সাইবার হামলার ঘটনা রয়েছে। এসব হামলায় মিরে অ্যাসেট গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টস, ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বিথাম্ব এবং ডেইশিন সিকিউরিটিজের মতো প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকতথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্সে সাম্প্রতিক বড় ধরনের সাইবার চুরির ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবরের ওই ঘটনায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। তবে উত্তর কোরিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বাইন্যান্সের ঘটনা উল্লেখ করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেননি। বরং এ ধরনের হামলা থেকে জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সুরক্ষায় আগাম প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ২১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে জরুরি নিরাপত্তা পরিদর্শন শুরু করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এ কার্যক্রমের লক্ষ্য।

লি জে মিয়ং আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির সঙ্গে হ্যাকিংয়ের কৌশলও আরও জটিল ও উন্নত হচ্ছে। ফলে শুধু হামলার পর ব্যবস্থা নিলে চলবে না; বরং সম্ভাব্য আক্রমণের সংকেত আগে শনাক্ত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক এবং দ্রুত প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অর্থনীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবার অবকাঠামোর নিরাপত্তা ঘাটতি দূর করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। নতুন সংস্থা গঠনের প্রস্তাবটি এখনো বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে। এটি কবে এবং কী কাঠামোয় গঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।