কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পানির সংকট দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। একজন মানুষের জন্য প্রতিদিন প্রায় ২০ লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দিয়ে পান করা, রান্না, গোসল এবং স্যানিটেশনের মতো সব প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর WASH (Water, Sanitation and Hygiene) কার্যক্রমের আওতায় ক্যাম্পগুলোতে পানি সরবরাহ করা হয়। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ সীমিত হওয়ায় অনেক পরিবারকে পানি ব্যবহারে কঠোরভাবে হিসাব করতে হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে নারী ও শিশুরাই পানি সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন। সীমিত সরবরাহের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্যাম্পগুলোতে এই পানি শুধু পান করার জন্য নয়, রান্না, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, কাপড় ধোয়া এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার জন্যও ব্যবহার করতে হয়। ফলে দৈনিক বরাদ্দের সামান্য পরিবর্তনও বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলে।

বর্ষা মৌসুমে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, পানির উৎসের ওপর চাপ এবং বাড়তে থাকা চাহিদা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ বসবাস করছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার জন্য এসব ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শরণার্থী ক্যাম্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। পর্যাপ্ত পানি না থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সংস্থা গভীর নলকূপ, পানি শোধন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিতরণ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ক্যাম্পগুলোতে শুধু জরুরি সহায়তা নয়, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে একই অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে এত বড় জনগোষ্ঠীর পানির চাহিদা পূরণ করা কঠিন।

বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিনের জীবন চলছে সীমিত পানির হিসাব করে। তবে শুষ্ক মৌসুম সামনে রেখে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা না গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।