রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনা ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত ২ অক্টোবর রাত ১১টা ৪৪ মিনিটের দিকে রুশ নির্মিত ইলিউশিন-৭৬ উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পরপরই জ্বালানি খালাসের কাজ শুরু হয়।

রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সড়কপথে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে। শনিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে তিনটি লরিতে করে চালানটি বিমানবন্দর থেকে রওনা হয় বলে জাগো নিউজ জানিয়েছে। নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যাটালিয়ন, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন।

প্রকল্পের প্রশাসন বিভাগের প্রধান গোলাম মাহবুব দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি ফ্লাইটে ২০০টির বেশি assembled fuel element বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৩টি জ্বালানি assembly রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য।

তবে এবারের চালানটি ঠিক কোন ইউনিটের জন্য কতটা ব্যবহার হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য বক্তব্যে পুরো চালানভিত্তিক বিস্তারিত পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি—দুই ধরনের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

এই চালানটি আসার কথা ছিল গত ২৪ সেপ্টেম্বর। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বিমানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম তখন জানিয়েছিলেন, রুটের একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় চালানটি আটকে আছে। তিনি বলেছিলেন, ওই রুটে আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান ও ভারত পড়ছে এবং পাকিস্তানের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

পরে পাকিস্তান হাইকমিশন ঢাকায় জানায়, বিষয়টি কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত; তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদন নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও বেসামরিক বিমান চলাচলবিধি অনুসারে প্রক্রিয়া করা হয়। ফলে সেপ্টেম্বরের স্থগিত চালানের পর নতুন সময়সূচিতে শুক্রবার রাশিয়া থেকে বিমানটি বাংলাদেশে আসে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি রয়েছে, প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরের দুটি ইউনিটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর সময়সূচি যথাক্রমে ২০২৬ ও ২০২৭ সাল।

চলতি বছরের এপ্রিলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে নতুন পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। মে মাসের মধ্যে ১৬৩টি fuel assembly চুল্লির কোরে লোড করা হয়েছিল। বর্তমানে ইউনিটটি কমিশনিংয়ের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করছে।

শুক্রবার রাতে ঢাকায় পৌঁছানো চালানটি এখন বিশেষ নিরাপত্তায় রূপপুরে নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও কয়েক দফায় রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।