দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত করার বিষয়েও মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বৈঠকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে আমদানিনির্ভর জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ওঠানামার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোকে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হলে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, জমি ও অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সঞ্চয়ব্যবস্থা এবং জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যালোকের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অন্যান্য উৎসের সঙ্গে সমন্বয়ও প্রয়োজন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নতুন কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প, বরাদ্দ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।

