রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ওই হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মুনির হোসেন মতিহার থানায় মামলাটি করেন। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।
হামলায় আহত চার সাংবাদিক হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবান, দৈনিক আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। প্রথমে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে একদল শিক্ষার্থীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যও রয়েছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিতে আরও রয়েছেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম আসাদুল হক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার।
প্রশাসনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হামলার ঘটনায় হলের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে হামলার অভিযোগ তদন্তে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদও দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মীকে সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলায় কারও নাম না থাকায় সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভিডিও ফুটেজে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব বলে দাবি করে তারা দ্রুত গ্রেপ্তার ও মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা স্বাধীন তদন্ত এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আহত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশের মামলার তদন্তেই নির্ভর করছে হামলার ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




