রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হা/ম/লার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। একই ঘটনায় আরও চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত এবং তিনজনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, তদন্ত কমিটি নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রত্ব স্থগিতের সুপারিশ পাওয়া চারজন হলেন আইন বিভাগের আহসান হাবীব, ইতিহাস বিভাগের হাসিবুল ইসলাম হাসিব, অর্থনীতি বিভাগের বিশাল চক্রবর্তী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।
আহসান হাবীব বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি, হাসিবুল ইসলাম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বিশাল চক্রবর্তী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ও পাওয়া তথ্যপ্রমাণ বিবেচনায় সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম, কর্মী তানিম রহমান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান ও শরীফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার কথা বলা হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হা/ম/লার ঘটনা ঘটে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা প্রতিবাদ জানান।
পরদিন ৫ অক্টোবর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশগুলো প্রকাশ করা হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রেজাউল করিম জানান, হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘটনার পেছনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। পাওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িক স্থগিতের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে সুপারিশ পাওয়া চারজনের মধ্যে দুজনের নিয়মিত ছাত্রত্ব না থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। আহসান হাবীব ও বিশাল চক্রবর্তীর বর্তমান ছাত্রত্বের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরাও দ্রুত সিন্ডিকেটের অনুমোদন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ প্রকাশের পরও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে বিষয়টির নিষ্পত্তি এবং অধিকতর তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা।









