দীর্ঘ অপেক্ষার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত ১১টা ৪৩ মিনিটের দিকে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনটি লরিতে করে ইউরেনিয়ামের চালান ঢাকার বিমানবন্দর থেকে পাবনার রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পরিবহনের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে।
পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে গাড়িবহরটি ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে যায়। প্রকল্পের কর্মকর্তারা সেখানে চালানটি গ্রহণ করেন। যাত্রাপথে নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এই চালানটি মূলত রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত পারমাণবিক জ্বালানি। চালানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া থেকে আসার পথে উড়োজাহাজটির পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় নির্ধারিত সময়ে সেটি আসতে পারেনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গত ২৮ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ায় চালানটি আটকে আছে। পরে রসাটম নতুন সময়সূচি দেয় এবং অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সরবরাহের কথা জানায়।
রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানি সরবরাহের কাজ অবশ্য এই একটি চালানেই শেষ হচ্ছে না। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। সব মিলিয়ে আরও কয়েকটি চালানে জ্বালানি বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট, অর্থাৎ দুটি ইউনিট চালু হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
তবে ইউরেনিয়াম পৌঁছানোকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ সম্পন্ন হলেও কমিশনিং পর্যায়ে কিছু কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত কাজ এখনো বাকি রয়েছে। বিশেষ করে চাপ নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত একটি সেফটি ভালভ নিয়ে কাজ চলছিল।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই সেফটি ভালভ ১৬ মেগাপাসকেল চাপে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
সর্বশেষ ইউরেনিয়াম চালান নিরাপদে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোয় জ্বালানি সরবরাহের প্রক্রিয়ায় আরেকটি ধাপ এগোল। এখন মূল নজর প্রথম ইউনিটের বাকি কমিশনিং ও নিরাপত্তা পরীক্ষাগুলোর দিকে—এরপরই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী ধাপ এগোবে।