পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানির তৃতীয় চালান পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এই চালানে ১২টি বিশেষ পরিবহন প্যাকেজে জ্বালানি আনা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে ভারতের দিল্লি হয়ে একটি বিশেষ উড়োজাহাজে জ্বালানিটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে তিনটি লরিতে করে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় জ্বালানি পাবনার উদ্দেশে নেওয়া হয়। পথে বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তৃতীয় চালান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি চালানে জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। মঙ্গলবারের চালানটি সেই ধারাবাহিকতার তৃতীয় চালান। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃসংযোজনের জন্য আরও দুটি চালানে জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও জ্বালানিবাহী উড়োজাহাজ আসার কথা রয়েছে।

জ্বালানি পরিবহনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরিবহনের সময় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। তবে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনব্যবস্থার নিরাপত্তা ভালভে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ভালভটির পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ভিত্তিতে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) অনুমোদনের পর ৮ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে প্রথম নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে আরও দুটি অনুমোদন প্রয়োজন বলে সে সময় বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছিলেন। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি পরবর্তী ধাপ, অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় প্রবেশ করবে।

জ্বালানি পৌঁছালেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু নয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন একটি উৎস যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে।

তবে পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো বা চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপন সম্পন্ন হওয়া মানেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়ে যাওয়া নয়। এর আগে চুল্লি ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই, ধাপে ধাপে পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহের অগ্রগতি প্রকল্পের সামগ্রিক প্রস্তুতিতে নতুন ধাপ যোগ করেছে। তবে প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে শুরু হবে, তা নির্ভর করছে বাকি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।