জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরে গিয়ে ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। চার দিনের এই সফরে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
সফরজুড়ে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি দেশের সঙ্গে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়।
জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই ধরনের সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হয়।
চার দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের উদ্দেশে রওনা হন। সফরে অংশ নেওয়া বৈঠক ও আলোচনাগুলো থেকে ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় নতুন উদ্যোগ আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।




