রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের ভূমি অফিসে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ অভিযানে হাতেনাতে আটক হয়েছেন সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলাম। জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারির কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে এক ব্যক্তির কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আটকের পর তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে এ অভিযান চালায় দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল। অভিযোগকারী ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ টাকা গ্রহণের পরই তাকে আটক করা হয়।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আসাদুল ইসলাম লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. মনিরুল ইসলাম।
মনিরুল ইসলাম ঢাকার লালবাগ থানাধীন চর কামরাঙ্গী মৌজার বিভিন্ন দাগে থাকা মোট ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত ও অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা গ্রহণ করেছিলেন। ওই জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি আলাদা করা এবং একটি নকশা তৈরির জন্য গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন তিনি।
তবে আবেদন করার পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হয়নি। এ সময় একাধিকবার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেন মনিরুল। পরে তাকে ওই কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারির কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে মনিরুলের কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন আসাদুল। বিষয়টি দুদককে জানান ভুক্তভোগী। পাশাপাশি ঘুষ গ্রহণের সময় তাকে হাতেনাতে আটকের জন্য ফাঁদ অভিযান পরিচালনার অনুরোধ করেন।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করে দুদক। মঙ্গলবার সকালে অভিযোগকারীকে দিয়ে এক লাখ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বেলা ১১টার দিকে সার্ভেয়ারের নির্ধারিত কক্ষে মনিরুল ওই টাকা দেন।
টাকা গ্রহণের পর আসাদুল ইসলাম সেটি তার ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় ড্রয়ারে রাখেন। এ সময় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুদকের সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওই ড্রয়ার থেকে একটি খাকি রঙের খামে রাখা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা টাকার নোটগুলোর নম্বর আগে থেকে অভিযোগকারীকে দেওয়া টাকার নম্বরের সঙ্গে মিলে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুল টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন বলেও আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসাদুলের বিরুদ্ধে মামলা, আদালতের নির্দেশে কারাগারে
এ ঘটনায় আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ। দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার তাকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। দুদকের পক্ষ থেকে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হলে শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ফলে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কারাগারে যেতে হয় লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের এই সার্ভেয়ারকে।
জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারির মতো নাগরিক সেবাকে কেন্দ্র করে ওঠা এ অভিযোগে এখন মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলবে। দুদকের অভিযানের মাধ্যমে ঘুষের টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
