খুলনা ওয়াসার প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দুদকের তল্লাশি, আলোচনায় ৯০ কোটি টাকার চেক
খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মো. রেজাউল ইসলামের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা ওয়াসা ভবনে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করেন দুদক কর্মকর্তারা। প্রায় ৯০ কোটি টাকার ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগসহ কয়েকটি অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।
প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে অভিযোগ
দুদক ও খুলনা ওয়াসা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজাউল ইসলাম ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২-এর রুটিন দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন। ২০২৫ সালে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ওই দায়িত্ব পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পেতে একটি প্রভাবশালী মহলকে প্রায় ৯০ কোটি টাকার ফাঁকা চেক দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।
তবে ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অপরাধ প্রমাণের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি এখনো অনুসন্ধানাধীন।
পাঁচ হাজার গৃহসংযোগের বিল নিয়েও প্রশ্ন
রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ উঠেছে খুলনা ওয়াসার গ্রাহকদের পাঁচ হাজার গৃহসংযোগে পাইপ ও ফিটিংস স্থাপনের কাজের চূড়ান্ত বিল নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই সংযোগের বিপরীতে দ্বিতীয়বার বিল জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত অভিযোগের পর তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে কি না, কিংবা অনিয়মের আর্থিক প্রভাব কতটা, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
কী বলছে দুদক
দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল জানিয়েছেন, রেজাউল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ও অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা কিংবা সম্ভাব্য দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অনুসন্ধান শেষ হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ অস্বীকার প্রকৌশলীর
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, অভিযোগগুলো সঠিক নয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশের যথাযথ জবাব দেবেন।
অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের অনুসন্ধানে নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়ার কথা।
এখন নজর তদন্তের অগ্রগতিতে
খুলনা ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ এবং গৃহসংযোগের বিলসংক্রান্ত অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলছে। প্রায় ৯০ কোটি টাকার ফাঁকা চেকের অভিযোগটি গুরুতর হলেও কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দোষী বলা যায় না।
অনুসন্ধানে কী তথ্য পাওয়া যায়, অভিযোগগুলোর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ মেলে কি না এবং পরবর্তী সময়ে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়। দুদকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

