স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগ, কুয়েতে ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

কুয়েতে স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ। দেশটির সাদ আল-আবদুল্লাহ এলাকায় একটি আবাসিক বাড়ির ভেতরে লাইসেন্সবিহীন মুদি দোকান পরিচালনা করে সেখান থেকে কিশোর ও স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট সরবরাহ করা হতো বলে জানিয়েছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) কুয়েতের সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়।

বাড়ির ভেতরে চলছিল অবৈধ দোকান

কুয়েতের সংবাদমাধ্যম টাইমস কুয়েত ও আরব টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি স্কুলের কাছাকাছি আবাসিক বাড়ির ভেতরে মুদি দোকানের আড়ালে ই-সিগারেট বিক্রির কার্যক্রম চলছিল।

নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির তথ্য পৌঁছানোর পর বিষয়টি তদন্ত শুরু হয়। পরে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের অর্ডার গ্রহণ, পণ্য প্রস্তুত এবং সরবরাহের পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন গোয়েন্দারা।

তদন্তের একপর্যায়ে বাড়ির বাইরে এক স্কুলশিক্ষার্থীর কাছে ই-সিগারেট বিক্রির সময় প্রথম বাংলাদেশিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে যা যা জব্দ হয়েছে

অভিযানের সময় বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ ই-সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য উদ্ধার করা হয়। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে:

  • ১৩টি বড় বাক্স ই-সিগারেট।

  • ২৩টি ছোট বাক্স ই-সিগারেট।

  • ২১৯টি ছোট প্যাকেট তামাক।

  • ১ হাজার ৭২২ কুয়েতি দিনার নগদ অর্থ।

উদ্ধার করা অর্থ ই-সিগারেট বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

দায়িত্ব ভাগ করে পরিচালনা করতেন পাঁচজন

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার পাঁচজন ওই দোকানে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে কুয়েতের সংবাদমাধ্যম।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিয়েছিলেন। কেউ দোকানের কর্মীদের তদারকি করতেন, কেউ অর্থ সংগ্রহ করতেন। আবার কেউ ফোনে অর্ডার নেওয়া, পণ্য প্রস্তুত এবং ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন।

অর্ডার নেওয়া ও পণ্য সরবরাহের জন্য বাড়ির বাইরে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ফলে আবাসিক বাড়ির ভেতরে দোকান পরিচালনা করেও ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল।

আইনি ব্যবস্থার জন্য হস্তান্তর

গ্রেপ্তার পাঁচ বাংলাদেশি এবং জব্দ করা মালামাল প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় আইন মেনে চলা এবং কোনো অবৈধ ব্যবসায় জড়িত না হওয়ার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারিত হবে।