ইতালিতে বছরে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার কর্মী বৈধ পথে ইতালিতে কাজ করতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২৫ সালে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কাজের ভিসা নিয়ে ইতালিতে গেছেন এবং ২০২৬ সালেও প্রায় একই সংখ্যক কর্মী যাওয়ার প্রত্যাশা করছে দেশটি। ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সম্প্রতি দৈনিক কালবেলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতালিতে যাওয়ার বৈধ সুযোগ সীমিত। তাই সবাইকে ইতালি যাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। আগ্রহীদের দালালের প্রলোভনে না পড়ে বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ভিসার নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কাজের ভিসার সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে

ইতালিতে দীর্ঘমেয়াদি কাজের ভিসার জন্য সাধারণত দেশটির সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হয়। নিয়োগকর্তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া এগোয়। অর্থাৎ শুধু ইতালি যাওয়ার ইচ্ছা বা কোনো এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলেই কাজের ভিসা নিশ্চিত হয় না।

ইতালির রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন অনুমোদনের ভিত্তিতে করা আবেদনগুলো তুলনামূলক ভালোভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। তবে অতীতে কিছু পুরোনো অনুমোদন ও আবেদনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সেগুলোর ক্ষেত্রে যাচাই এবং প্রত্যাখ্যানের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি নতুন আবেদন ও পুরোনো আবেদনসংক্রান্ত পরিস্থিতিকে আলাদা করে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের জন্যও রয়েছে আলাদা সুযোগ

কাজের ভিসায় যাওয়া কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের ভিসায় ইতালিতে যাওয়া পরিবারের সদস্যরাও দেশটির নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।

তবে পরিবারের পুনর্মিলন ভিসার সংখ্যা কাজের ভিসার সংখ্যার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। দুটি ভিসার উদ্দেশ্য ও যোগ্যতার শর্ত আলাদা। ফলে বছরে ১০ হাজার কর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের ভিসা মিলিয়ে মোট কতজন বাংলাদেশি ইতালিতে যাচ্ছেন, তা নির্দিষ্ট সময়ের সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে হিসাব করা প্রয়োজন।

অবৈধ পথে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা

ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশিদের অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রার ক্ষেত্রে মানবপাচারকারী ও অবৈধ দালালচক্রের প্রতারণার ঝুঁকি রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের পথে গিয়ে অর্থ হারানো, জীবন বিপন্ন হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা থাকে।

তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশ ও ইতালি অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে পাচারকারী চক্র শনাক্ত করা, সম্ভাব্য অভিবাসীদের সচেতন করা এবং বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করার বিষয় রয়েছে। দুই দেশের সহযোগিতার ফলে অনিয়মিতভাবে ইতালিতে পৌঁছানোর সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবেদনকারীদের কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

ইতালিতে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহীদের প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে যে নিয়োগকর্তা ও চাকরির প্রস্তাবটি বাস্তব। এরপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন, চুক্তিপত্র এবং ভিসার আবেদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা নিশ্চিত করার নামে অগ্রিম অর্থ দাবি করলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

এ ছাড়া ভুয়া কাগজপত্র বা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে ভিসা প্রত্যাখ্যানসহ ভবিষ্যতে বিদেশযাত্রায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়োগকর্তার অনুমোদন, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং দূতাবাসের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই নিরাপদ পথ।

ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সুযোগ নির্দিষ্ট নিয়ম ও অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্রদূতের পরামর্শও স্পষ্ট—অবৈধ দালালের প্রতিশ্রুতিতে অর্থ ব্যয় না করে বৈধ অভিবাসনের পথ বেছে নিতে হবে।