লিবিয়া থেকে আরও ১৭২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন অসুস্থ ছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।

বুধবার লিবিয়ার মিসরাতা শহর থেকে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁদের ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। লিবিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা এসব বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

দেশে ফেরার আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রার শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ঝুঁকি সম্পর্কে তাঁদের সতর্ক করেন।

রাষ্ট্রদূত মানবপা/চারকারী ও দালালদের প্রলোভনে না পড়ার পরামর্শ দেন। বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধ পথ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার লিবিয়া থেকে আরও ১৭৪ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাঁদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাঁদের ৩৬ জনকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় আটক করে ত্রিপোলির তাজুরা বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল। বাকি ১৩৮ জন লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরেন।

ফেরত আসা অনেক বাংলাদেশি মানবপা/চারকারীদের প্রলোভনে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ সেখানে অপ/হরণ ও নি/র্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দেশে ফেরার পর প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইওএমের পক্ষ থেকে যাতায়াতের খরচ, খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অস্থায়ী আবাসনের সহায়তা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান।

লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক থাকা এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক অন্য বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফেরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বেনগাজির গানফুদা ও ত্রিপোলির তাজুরা বন্দিশালায় থাকা বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। দালালদের প্রলোভনে পড়ে বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধ ভিসা, কাজের অনুমতি, নিয়োগদাতার পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় অনেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও বৈধ অভিবাসনপথ অনুসরণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।