যশোরের কেশবপুর প্রেস ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরের এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, আর দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রেস ক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, সদস্য জাহিদুর রহমান এবং আসন্ন নির্বাচনের সভাপতি প্রার্থী জয়দেব চক্রবর্তী। অপর পক্ষের মাহবুবুর রহমান ও সাদেক হোসেনও আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

নির্বাচন ঘিরেই বিরোধ

স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো জানিয়েছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন সামনে রেখে জয়দেব চক্রবর্তীকে সভাপতি এবং আবদুল্লাহ আল ফুয়াদকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী করে একটি প্যানেল প্রচার চালাচ্ছিল। অন্যদিকে বর্তমান সভাপতি আশরাফ উজ জামান খান ও রুহুল কুদ্দুসও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।

রোববার দুপুরে কয়েকজন প্রেস ক্লাবে ঢোকার পর প্রথমে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এক পক্ষের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু, মাহবুবুর রহমান ও অন্য কয়েকজনের নেতৃত্বে বহিরাগতরা ক্লাবে ঢুকে হামলা চালান এবং সদস্যদের বের করে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন। আহত সাংবাদিক জাহিদ হাসানও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

তবে ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রেস ক্লাবে যারা ছিলেন তারা সাংবাদিক; কোনো বহিরাগত সেখানে ছিলেন না। তাঁর দাবি, বরং অন্য পক্ষের হামলায় তাঁদের পাঁচজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

ঘোষণা করা হলো নতুন কমিটি

সংঘর্ষের পর একটি পক্ষ ৫১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। এতে দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং হারুন অর রশিদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকেও ওই কমিটিতে রাখা হয়েছে।

অন্য পক্ষের দাবি, এই কমিটি স্বঘোষিত এবং প্রেস ক্লাবের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এটি করা হয়েছে। অন্যদিকে কমিটি ঘোষণাকারীদের বক্তব্য, তারা সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস ক্লাবের কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে এবং গোলযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। দুই পক্ষকে থানায় এসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের কথা বলা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে ২৬ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন সামনে থাকায় প্রেস ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিরোধ এখন কীভাবে মীমাংসা হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না আসা পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি।