বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পশুর নদে তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষে ডুবে গেছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টন কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ এমভি ফুলবাড়ি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের হারবাড়িয়া-সংলগ্ন সুন্দরী কোঠা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটির নয়জন নাবিক সাঁতরে অন্য একটি জাহাজে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন। পরে তাঁদের সঙ্গে ট্যাংকারের এক কর্মীকেও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নৌযানের কর্মীদের বরাতে জানা গেছে, কয়লা নিয়ে ঢাকার বাদামতলীর উদ্দেশে যাচ্ছিল এমভি ফুলবাড়ি। পথে এমটি জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে কার্গো জাহাজটির গায়ে ফাটল ধরে এবং ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজটি নদীতে ডুবে যায়।

যেভাবে প্রাণে বাঁচলেন নাবিকেরা

এমভি ফুলবাড়ির সুকানি মো. সাকিব কাজী জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা বোঝাই করে তাঁরা রওনা হন। সুন্দরী কোঠা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্যাংকারটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে জাহাজে দ্রুত পানি ঢুকতে থাকে।

সাকিব কাজীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা জাহাজটি নদীর তীরের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই সেটি ডুবতে শুরু করে। পরে সবাই লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে কাছাকাছি থাকা অন্য একটি জাহাজে ওঠেন। পরে রানিয়া-১৩ নামের একটি জাহাজ এমভি ফুলবাড়ির নয়জন নাবিক এবং ট্যাংকার এমটি জান্নাতুল ফেরদৌসের লস্কর মো. নয়ন শেখকে উদ্ধার করে মোংলায় নিয়ে আসে। তাঁদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য

এমভি ফুলবাড়ির কর্মীদের অভিযোগ, এমটি জান্নাতুল ফেরদৌস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের জাহাজে ধাক্কা দেয়। এতে কার্গোটির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পানি ঢুকে জাহাজটি ডুবে যায়।

অন্যদিকে, ট্যাংকারের লস্কর মো. নয়ন শেখের দাবি, নোঙরের সমস্যার কারণে তাঁদের নৌযান সরে মূল চ্যানেলের দিকে চলে এসেছিল। তিনি জানান, সংঘর্ষের আগে আলো দিয়ে সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে সংঘর্ষ ঘটেছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মূল চ্যানেলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটি মূল নৌপথের বাইরে রয়েছে। ফলে পশুর চ্যানেলে নৌযান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটছে না।

তিনি জানান, জাহাজটি দ্রুত উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে জাহাজটি উদ্ধারের কাজ শুরু হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

জাহাজে কত টন কয়লা ছিল

দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া জাহাজটির কয়লার পরিমাণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও দ্য ডেইলি স্টার প্রায় ১ হাজার ২০০ টন কয়লার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ১ হাজার ২৫০ টন কয়লার তথ্য প্রকাশ করেছে।

এমভি ফুলবাড়ি হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা নিয়ে ঢাকার বাদামতলীর উদ্দেশে যাচ্ছিল। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সংঘর্ষে জাহাজটি ডুবে যায়। কয়লা উদ্ধারের পাশাপাশি ডুবে যাওয়া জাহাজটি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এখন মালিকপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও নদীপথে বড় নৌযানের সংঘর্ষ এবং জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ডুবে যাওয়া কার্গো উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।