জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলটির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই তিনি জামায়াত আমিরের বাসভবনে যান।
সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান আখতারুজ্জামান। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানাতে কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাঁরা ফুল দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি জামায়াত আমিরের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রে/প্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
মামলার সূত্রপাত ১ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে। মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি সংগ্রহ নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, তাঁকে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। তবে এগুলো মামলার অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়।
গ্রে/প্তারের পর আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ৪ অক্টোবর রিমান্ড শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতেও তাঁর জামিন আবেদন খারিজ হয়।
এরপর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। গত ১ নভেম্বর বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসাইনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁকে জামিন দেন। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ২ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। তবে চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেওয়ায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল থাকে।
আখতারুজ্জামানের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, জামিন বহাল থাকার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছায়। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারও তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তাঁর কারামুক্তি ও জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।




