সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেকে সরে এসে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, আবার সংবিধান সংশোধন করা হলেও আদালতে তা বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই অতীতের ভুল পথে না গিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা উচিত।
রোববার, ২৫ অক্টোবর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
সরকারি দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন সংবিধানের কথা বলা হলেও অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে সংবিধান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, বিদ্যমান সংবিধান ফ্যাসিবাদের জন্ম ও স্থায়িত্বে ভূমিকা রেখেছিল। তাই শুধু সংশোধনের পথে না গিয়ে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অবস্থানেরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তাঁর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবের কয়েকটিতে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল এবং যেসব বিষয়ে আপত্তি ছিল না, সেগুলোও এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিএনপি কার্যকর অবস্থান নেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটিতে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বানের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বিরোধী দল জনগণের রায়ের সঙ্গে আপস করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় বিএনপির বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার অভিযোগও তোলেন জামায়াত আমির। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে অর্থ, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ ঠেকানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কৃষকের কাছ থেকে কম দামে পণ্য কেনা হলেও শহরের ক্রেতাদের বেশি দাম দিতে হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সাধারণ মানুষ যাতে স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রসঙ্গও তোলেন জামায়াত আমির। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদত্যাগের পাশাপাশি তাঁকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন। তাঁদের বক্তব্যেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা উঠে আসে।





