কোনো সিন্ডিকেটের কাছে বাংলাদেশকে তুলে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের সহযোগিতার প্রস্তাব গ্রহণ না করা এবং গণভোট ও সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা সিন্ডিকেটের কাছে প্রিয় বাংলাদেশকে তুলে দেব না। এ দিন শেষ।’
সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের ঘোষণাও দেন তিনি। জামায়াতের আমির বলেন, এত দিন তাঁরা সরকারকে সহযোগিতার কথা বলে এলেও এখন থেকে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবেন। বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার পর তাঁরা সংসদে নোটিশ দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে সংকট নিরসনে সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন।
জামায়াতের আমির জানান, তাঁরা নতুন কোনো কমিটি গঠনের দাবি করেননি। বরং নিজেদের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলকে সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে যাওয়ায় দেশের সমস্যা সমাধানে তাঁদেরও ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করলে অনিয়মের সুযোগ কমে যেতে পারে বলেই সরকার সহযোগিতার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবে দেশের স্বার্থের পরিবর্তে নিজেদের ও পরিবারের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, তাঁরা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের পক্ষে ছিলেন, যাতে বিষয়টি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু বিএনপি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের দাবি জানায়।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপির পক্ষ থেকে তখন গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে দুটি শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়টিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, শপথের সময় এসে বিএনপি আগের অবস্থান পরিবর্তন করে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এই অবস্থান পরিবর্তনকে গণভোট ও সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে দাবি করেন জামায়াতের আমির। সরকারি দল ও বিরোধী দলের পৃথকভাবে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ জেগে উঠেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।
জামায়াতের আমির আরও জানান, তরুণদের সঙ্গে থেকে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দাবি আদায়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না আসার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।








