রাজধানীর মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য এবং ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শফিকুর রহমান। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি মিরপুরের হকার সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, শুধু সড়ক ও ফুটপাত থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে উপযুক্ত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথও উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
মিরপুরের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে এর আগে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টেও শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আগে আলোচনা হলে আরও কার্যকর ও সমন্বিত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব ছিল।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে এসেছেন। এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব, নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার সুযোগ তৈরি করে সিটি করপোরেশন যৌক্তিক হারে কর নিতে পারে, তবে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।
এদিকে বুধবার সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে অভিযান চলার সময় হকারদের সঙ্গে ডিএনসিসির কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের সময় ডিএনসিসির দুটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং কয়েকটি বুলডোজার ভাঙচুরের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন বলে ইউএনবি জানিয়েছে।
আগুনের সূত্রপাত নিয়ে অবশ্য ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। হকারদের দাবি, ফুটপাতের দোকান সরানোর সময় একটি বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অন্যদিকে সংঘর্ষের সময় ডিএনসিসির গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর মিরপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার জানিয়েছেন।
এদিকে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিরপুর ও কাফরুল থানায় চারটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর পর্যন্ত এসব মামলায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নগরবাসীর স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ফলে মিরপুরের ঘটনায় একদিকে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন বা বিকল্প জায়গা দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সমস্যার সমাধানে উচ্ছেদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং চাঁদাবাজি বন্ধের ব্যবস্থা প্রয়োজন। মিরপুরের ঘটনার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।