পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য ও চিত্রকলাকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাকিস্তান ন্যাশনাল কাউন্সিল অব দ্য আর্টসের (পিএনসিএ) অডিটরিয়ামে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ১৫ সদস্যের একটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাকিস্তানের ন্যাশনাল হেরিটেজ ও সংস্কৃতিবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি। উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের প্রধান ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মিজানুর রহমান, পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক সংগীতের পাশাপাশি দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। লালনগীতি ও নজরুলসংগীতের পরিবেশনাও ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। শিল্পীদের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকেরা করতালির মাধ্যমে তাঁদের প্রশংসা জানান।

একক সংগীত পরিবেশন করেন পিয়াল হাসান, মো. ইশা খান ইথুন বাবু, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন নাসির ও নাজনীন আক্তার, যিনি মৌসুমী চৌধুরী নামেও পরিচিত।

দলীয় নৃত্যে অংশ নেন মেহবুবা মাহনুর চাঁদনি, ফারহানা চৌধুরী, আব্দুর রশিদ স্বপন ও গোলাম মোস্তফা। সংগীত পরিবেশনায় তবলায় সহযোগিতা করেন মো. রাজু আহমেদ চৌধুরী, সিন্থেসাইজারে মো. রাহাত আহমেদ হাসান, গিটারে মো. ইকবাল হোসাইন খন্দকার এবং অক্টাপ্যাডে সৌরভ সাহা।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার পাশাপাশি পিএনসিএর আলোকচিত্র গ্যালারিতে আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মো. আবদুস সাত্তারের দুই দিনব্যাপী একক চিত্রপ্রদর্শনী। শনিবার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি।

এর আগে পিএনসিএর লেকচার হলে শিল্পী আবদুস সাত্তার ওরিয়েন্টাল চিত্রশিল্প নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা করেন। এতে প্রায় একশ তরুণ শিল্পী ও শিল্পানুরাগী অংশ নেন। আলোচনায় চিত্রকলার বিভিন্ন দিক ও শিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি বলেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় দুই দেশের মানুষকে একে অপরের শিল্প, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খানও দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশি শিল্পীদের স্বাগত জানানোর জন্য পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এতে পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী, সংস্কৃতিবিষয়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সফররত বাংলাদেশি শিল্পীরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে ১৬ অক্টোবর ইসলামাবাদে পৌঁছায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।