বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও দৃশ্যমান করতে নতুন অংশীদারত্ব শুরু করেছে অক্সফোর্ডের Ashmolean Museum ও Samdani Art Foundation। এই উদ্যোগের আওতায় প্রতি বছর একজন বাংলাদেশি শিল্পীকে অক্সফোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং ধাপে ধাপে Ashmolean Museum-এ সমকালীন বাংলাদেশি শিল্পের একটি বিশেষ সংগ্রহ গড়ে তোলা হবে। 

নতুন উদ্যোগটির নাম Ashmolean Samdani Visiting Artist Programme। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ একে কোনো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্প ও শিল্পীদের নিয়ে প্রথম দীর্ঘমেয়াদি বা ধারাবাহিক কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেছে। 

প্রতি বছর নির্বাচিত বাংলাদেশি শিল্পী Ashmolean Museum-এ প্রায় দুই সপ্তাহ সময় কাটাবেন। সেখানে জাদুঘরের সংগ্রহ ও আর্কাইভ ঘুরে দেখার পাশাপাশি কিউরেটরদের সঙ্গে কাজ ও মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে Department of Eastern Art-এর সংগ্রহ ঘিরে গবেষণা ও নতুন সৃজনশীল ধারণা তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে। 

এই কর্মসূচির প্রথম শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মুন্নেম ওয়াসিফ। ঢাকাভিত্তিক এই শিল্পী, কিউরেটর ও শিক্ষক মূলত আলোকচিত্র, চলমান চিত্র, আর্কাইভাল উপকরণ ও সংগৃহীত বস্তু নিয়ে কাজ করেন। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত তিনি কর্মসূচির অংশ হিসেবে অক্সফোর্ডে থাকছেন। 

মুন্নেম ওয়াসিফের কাজের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বাংলার ঔপনিবেশিক ইতিহাস, স্মৃতি এবং অতীতের অবশিষ্ট উপাদান নিয়ে অনুসন্ধান। Ashmolean Museum-এর সংগ্রহ ও আর্কাইভ সরাসরি দেখার সুযোগ তার চলমান গবেষণা ও শিল্পচর্চাকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

কর্মসূচির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সমকালীন বাংলাদেশি শিল্পের সংগ্রহ তৈরি। Samdani Art Foundation-এর সহায়তায় Ashmolean ইতোমধ্যে বাংলাদেশি শিল্পী আশফিকা রহমানের কয়েকটি কাজ সংগ্রহে যুক্ত করেছে। তার কাজে পরিচয়, স্মৃতি এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা দিক উঠে আসে। 

Ashmolean Museum-এর Eastern Art বিভাগের কিপার অধ্যাপক Mallica Kumbera Landrus বলেছেন, জাদুঘরটির দক্ষিণ এশীয় শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ রয়েছে। নতুন অংশীদারত্ব সমকালীন বাংলাদেশি শিল্প ও শিল্পীদের যুক্ত করে সেই ইতিহাসকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করবে। 

Samdani Art Foundation-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি Nadia Samdani MBE এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের শিল্পীদের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি শিল্পীদের কাজের সুযোগ ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়াতে কাজ করছে। 

২০১১ সালে নাদিয়া ও রাজীব সামদানির প্রতিষ্ঠিত Samdani Art Foundation আন্তর্জাতিকভাবে Dhaka Art Summit এবং Samdani Art Award-এর জন্য পরিচিত। নতুন কর্মসূচি সেই আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগকে অক্সফোর্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘরের সঙ্গে আরও স্থায়ী রূপ দিচ্ছে। 

বাংলাদেশি শিল্প নিয়ে Ashmolean-এর আগ্রহ অবশ্য এই কর্মসূচির আগেই দৃশ্যমান হয়েছে। বর্তমানে জাদুঘরের Ashmolean NOW সিরিজে বাংলাদেশি শিল্পী Soma Surovi Jannat-এর কাজ প্রদর্শিত হচ্ছে, যেখানে জলবায়ু, সংস্কৃতি ও যত্নের ধারণা তার শিল্পকর্মের কেন্দ্রবিন্দু। প্রদর্শনীটি ১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলার কথা। 

নতুন Visiting Artist Programme এবং বাংলাদেশি সমকালীন শিল্পের স্থায়ী সংগ্রহ গড়ে তোলার পরিকল্পনার ফলে Ashmolean Museum-এ বাংলাদেশের শিল্পচর্চা আর বিচ্ছিন্ন প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং শিল্পী বিনিময়, গবেষণা এবং সংগ্রহ নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিসরের সঙ্গে যুক্ত করার একটি কাঠামো তৈরি হচ্ছে।