জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা ১৪৩৩ সালের ১২ ভাদ্র, বৃহস্পতিবার দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। তাঁর প্রয়াণের অর্ধশতক পূর্তিতে দেশজুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য স্রষ্টাকে। 

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তবে বাংলা বর্ষপঞ্জির ১২ ভাদ্র অনুযায়ী বাংলাদেশে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় ২৭ আগস্ট। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। 

৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর স্মারক বক্তৃতা দেওয়ার কথা রয়েছে। 

কবি নজরুল ইনস্টিটিউটও জাতীয় কবির স্মরণে ধানমন্ডির ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং হামদ ও নাতের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি সচিব কানিজ মাওলার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। 

এ ছাড়া বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি এবং নজরুলসংগীত পরিবেশনাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। বাংলা কবিতা ও সংগীতে তাঁর সৃষ্টি প্রেম, দ্রোহ, সাম্য, মানবতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য প্রকাশ হয়ে আছে। 

‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তিনি সৃষ্টি করেন স্বতন্ত্র এক উচ্চারণ। একই সঙ্গে তাঁর অসংখ্য গান বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে। কবিতা, গান, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও সাংবাদিকতায় তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে বহুমাত্রিক এক ভাণ্ডার।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেয়। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদক লাভ করেন। 

জাতীয় কবির প্রয়াণের ৫০ বছর পরও তাঁর সৃষ্টি বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে সমানভাবে জীবন্ত। অন্যায়, বৈষম্য ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তাঁর উচ্চারণের পাশাপাশি প্রেম, মানবতা ও সম্প্রীতির বার্তা আজও নতুন প্রজন্মকে স্পর্শ করে চলেছে।