ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি সরিয়ে আগের নাম পুনর্বহালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে হলের ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা মুছে ফেলার কাজ শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেছেন, আগের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিনেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই হলটি আগের নামেই ফিরছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতনও জানিয়েছেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নামের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে হল প্রশাসন আগের নামটি পুনরায় ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।
যেভাবে নাম পরিবর্তনের শুরু
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবি সামনে আসে। ওই সময় শিক্ষার্থীদের একাংশ হলের প্রধান ফটকে থাকা আগের নাম সরিয়ে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি লেখেন।
পরবর্তীতে হলটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়। ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। একই সময়ে আরও কয়েকটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ও আলোচনায় আসে।
তবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনেও বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে প্রস্তাবটি আবার সিন্ডিকেটে পাঠানোর কথা জানানো হয়।
এদিকে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নাম ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল। এ কারণেও পুরোনো নাম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জবান আলী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও পুরোনো নাম
নামফলক নিয়ে পরিবর্তনের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হলটির নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হলটি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের তথ্যেও ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নামটি ব্যবহৃত হয়েছে।
ফলে ৩০ সেপ্টেম্বরের কার্যক্রমের মাধ্যমে হলটির প্রধান ফটকে প্রশাসনিকভাবে ব্যবহৃত আগের নামটি আবার দৃশ্যমান করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও সিনেটের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটিই এখন পরবর্তী বিষয়।