বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন এমন অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য পূর্ণ বা আংশিক অর্থায়নের বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এসব বৃত্তি দিয়ে থাকে।
তবে আন্তর্জাতিক বৃত্তি পাওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই হয় না। কোন বৃত্তি কার জন্য, কী যোগ্যতা প্রয়োজন, কোন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে, কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং কখন আবেদন করতে হবে, সেগুলো আগে থেকেই জানা জরুরি।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য বৃত্তি
যুক্তরাজ্যের চেভেনিং বৃত্তি, কমনওয়েলথ মাস্টার্স বৃত্তি, ইউরোপের এরাসমাস মুন্ডুস যৌথ স্নাতকোত্তর বৃত্তি, অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচিত কয়েকটি সুযোগ।
তবে প্রতিটি বৃত্তির উদ্দেশ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বিষয় ও আবেদন পদ্ধতি আলাদা। তাই একটি বৃত্তির যোগ্যতা অন্যটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
চেভেনিং বৃত্তিতে কীভাবে আবেদন করবেন
যুক্তরাজ্য সরকারের চেভেনিং বৃত্তি এক বছরের স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেয়। বাংলাদেশও এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত।
বর্তমানে ২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের চেভেনিং বৃত্তির আবেদন চালু রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১টা সমন্বিত বিশ্বসময়। আবেদনকারীদের যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি উপযুক্ত এক বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স খুঁজে নিতে হবে।
চেভেনিংয়ের আবেদন পুরোপুরি অনলাইনে করা হয়। আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নেতৃত্ব ও প্রভাব তৈরির অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যথাযথভাবে তুলে ধরতে হয়।
কমনওয়েলথ বৃত্তির নতুন আবেদন
যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ মাস্টার্স বৃত্তিও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে।
২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কমনওয়েলথ মাস্টার্স বৃত্তির আবেদন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হবে এবং ২০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টা ব্রিটিশ সময় পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এই বৃত্তির আওতায় যুক্তরাজ্যে পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
এই বৃত্তি মূলত এমন শিক্ষার্থীদের জন্য, যাঁরা নিজস্ব অর্থায়নে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করা কঠিন মনে করেন এবং নিজ দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার সম্ভাবনা রাখেন।
এরাসমাস মুন্ডুসে ইউরোপের একাধিক দেশে পড়ার সুযোগ
ইউরোপের এরাসমাস মুন্ডুস যৌথ স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন। এসব কর্মসূচি একাধিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয় মিলে পরিচালনা করে এবং অনেক কর্মসূচিতে পূর্ণ বৃত্তির সুযোগ থাকে।
এরাসমাস প্লাসের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা সাধারণত একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে পড়াশোনার সুযোগ পান। বৃত্তির আওতায় শিক্ষাব্যয়, ভ্রমণ, ভিসা এবং জীবনযাপনের জন্য অর্থ সহায়তা থাকতে পারে। অধিকাংশ কর্মসূচির আবেদন সাধারণত অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে নেওয়া হয়, তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা কোর্সভেদে আলাদা।
২০২৬ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে ৩৭টি নতুন এরাসমাস মুন্ডুস যৌথ স্নাতকোত্তর কর্মসূচি নির্বাচিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের আবেদন ২০২৬ সালের শরৎকাল থেকে শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন।
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৃত্তি। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির আওতায় মূলত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়।
২০২৭ সালে পড়াশোনা শুরুর জন্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত। বর্তমানে ওই আবেদন পর্ব শেষ হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী আবেদন ২০২৭ সালের শুরুতে আবার চালু হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ের সমমানের যোগ্যতা, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার নির্দিষ্ট শর্ত ছিল। সাধারণভাবে আইইএলটিএসে ৬ দশমিক ৫ বা সমমানের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা চাওয়া হয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীর জন্য আলাদা শর্ত রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডসের মূল্যায়নে শুধু একাডেমিক ফলাফল নয়, ব্যক্তিগত ও পেশাগত গুণাবলি এবং পড়াশোনা শেষে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফুলব্রাইট বৃত্তির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট বিদেশি শিক্ষার্থী কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পান।
ফুলব্রাইটের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচি ১৬০টির বেশি দেশে পরিচালিত হয় এবং প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আবেদন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
ফুলব্রাইটে আবেদন করার নিয়ম দেশ ও কর্মসূচিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বাংলাদেশ সম্পর্কিত সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
প্রথমেই যোগ্যতা যাচাই
বৃত্তির আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের যোগ্যতা যাচাই করা। শিক্ষাগত ফলাফল, ডিগ্রির বিষয়, বয়স, নাগরিকত্ব, কাজের অভিজ্ঞতা, ভাষা দক্ষতা এবং পূর্ববর্তী পড়াশোনার বিষয় অনেক বৃত্তির ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।
কিছু বৃত্তি নতুন স্নাতকদের জন্য উপযোগী, আবার কিছু কর্মজীবী বা নির্দিষ্ট পেশার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়। তাই শুধু বৃত্তির নাম দেখে আবেদন না করে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির পূর্ণ যোগ্যতার তালিকা পড়তে হবে।
নিজের পড়ার বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করুন
বৃত্তির আবেদন করার আগে কোন বিষয়ে পড়তে চান সেটি পরিষ্কার করা দরকার। নিজের পূর্ববর্তী পড়াশোনা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় নির্বাচন করলে আবেদনটি আরও যুক্তিসংগত হয়।
এরপর সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সের তালিকা তৈরি করে প্রতিটির ভর্তি যোগ্যতা, ভাষা দক্ষতার শর্ত এবং বৃত্তির সুযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে প্রস্তুত করুন
আবেদন শেষ মুহূর্তে শুরু করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে সমস্যা হতে পারে। তাই আগে থেকেই শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র, জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট, সুপারিশপত্র, ভাষা দক্ষতার সনদ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য নথি প্রস্তুত রাখা ভালো।
কিছু বৃত্তিতে কর্মসংস্থানের প্রমাণ, গবেষণা পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত বক্তব্য বা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যক্তিগত বক্তব্যে নিজের গল্প তুলে ধরুন
অনেক বৃত্তির আবেদনে ব্যক্তিগত বক্তব্য বা নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে শুধু নিজের ভালো ফলাফল বা অর্জনের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে কেন নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়তে চান, কী অভিজ্ঞতা আপনাকে প্রস্তুত করেছে এবং ভবিষ্যতে সেই শিক্ষা কীভাবে কাজে লাগাবেন, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
চেভেনিংয়ের মতো বৃত্তিতে নেতৃত্ব, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনপত্রে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা উদাহরণসহ তুলে ধরা প্রয়োজন।
সুপারিশপত্রের প্রস্তুতি
সুপারিশপত্র অনেক বৃত্তির আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যাঁরা আবেদনকারীর পড়াশোনা, গবেষণা বা পেশাগত কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন, তাঁদের কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়া কার্যকর হতে পারে।
তবে শুধু পরিচিত বা পদমর্যাদার কারণে কাউকে সুপারিশকারী হিসেবে নির্বাচন না করে আবেদনকারীর যোগ্যতা ও কাজ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে বলতে পারবেন এমন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া উচিত।
ইংরেজি ভাষার দক্ষতা
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অনেক সময় বাধ্যতামূলক। আইইএলটিএস, টোয়েফল বা অন্যান্য স্বীকৃত পরীক্ষার ফল বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃত্তিভেদে প্রয়োজন হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডসের ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বাংলাদেশি নির্দেশনায় আইইএলটিএসের নির্দিষ্ট স্কোরের শর্ত ছিল। তবে প্রতিটি বৃত্তির নিয়ম আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বর্তমান শর্ত যাচাই করা জরুরি।
সময়সীমা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক বৃত্তির আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি তালিকায় সব বৃত্তির সময়সীমা না লিখে প্রতিটি কর্মসূচির আবেদন শুরু ও শেষ হওয়ার তারিখ আলাদা করে রাখা ভালো।
উদাহরণ হিসেবে, ২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের চেভেনিংয়ের শেষ সময় ৬ অক্টোবর ২০২৬, আর কমনওয়েলথ মাস্টার্সের আবেদন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর ২০২৬ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে এরাসমাস মুন্ডুসের সময়সীমা নির্দিষ্ট কর্মসূচিভেদে আলাদা। ফলে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তির সময়সীমা দেখে অন্য বৃত্তির ক্ষেত্রেও একই তারিখ ধরে নেওয়া উচিত নয়।
শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়
আন্তর্জাতিক বৃত্তিতে প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ায় একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, পেশাগত অভিজ্ঞতা, সামাজিক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনেক কর্মসূচিতে আবেদনকারীর সামগ্রিক প্রোফাইল শক্তিশালী করে।
তবে সব বৃত্তিতে একই বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই যে কর্মসূচিতে আবেদন করা হচ্ছে, তার মূল্যায়ন পদ্ধতি বুঝে আবেদন প্রস্তুত করাই সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতির সহজ পরিকল্পনা
প্রথম ধাপে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিষয় ও ক্যারিয়ার লক্ষ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য বৃত্তির তালিকা তৈরি করা যেতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি বৃত্তির যোগ্যতা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয়, ভাষা দক্ষতা এবং আবেদন সময়সীমা যাচাই করতে হবে।
তৃতীয় ধাপে জীবনবৃত্তান্ত, সনদ, নম্বরপত্র, সুপারিশপত্র ও ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা উচিত।
এরপর ব্যক্তিগত বক্তব্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের আগেই আবেদন জমা দেওয়া ভালো।
সবশেষে আবেদন জমা দেওয়ার পর ইমেইল নিয়মিত দেখা এবং প্রয়োজন হলে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। কোনো বৃত্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আবেদন প্রয়োজন হলে সেটিও সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে।
সঠিক পরিকল্পনাই বাড়াতে পারে সুযোগ
বিদেশে পূর্ণ বৃত্তিতে উচ্চশিক্ষা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে প্রতিটি কর্মসূচির প্রতিযোগিতা ও যোগ্যতার ধরন আলাদা। তাই শুধু জনপ্রিয় বৃত্তির নাম জানা যথেষ্ট নয়; নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে কোন বৃত্তি সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি খুঁজে বের করাই গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চেভেনিং ও কমনওয়েলথের মতো যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৃত্তির আবেদন সামনে রয়েছে, আর এরাসমাস মুন্ডুসের নতুন কর্মসূচিগুলোর আবেদনও ২০২৬ সালের শেষদিকে শুরু হওয়ার কথা।
তাই বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে এখনই নিজের যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সম্ভাব্য বৃত্তির সময়সীমা নোট করা উচিত।





