উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা ও গবেষণা খাতে বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মতো প্রযুক্তিনির্ভর খাতে তরুণদের কাজ করার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে পারেন, সে লক্ষ্যেও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়। পরিকল্পনায় গবেষণা, উদ্ভাবন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মবাজারের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আইইউটির সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নবীন গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানান। তিনি তাঁদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, নতুন জ্ঞান অর্জন এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আইইউটির এবারের সমাবর্তনে ১৬টি সদস্যদেশের মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাঁদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৫৫ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৪৯ জন এবং মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৪৭ জন ডিগ্রি অর্জন করেন।

এ ছাড়া সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১২৬ জন, বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্টে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগে ২৫ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি পান।

অনুষ্ঠানে অসাধারণ শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সুমাইয়া আহমেদ রানীকে ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য আরও ছয়জন শিক্ষার্থী ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ। উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূরসহ দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিরা।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সততা বজায় রাখা, আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং অর্জিত জ্ঞান সমাজের উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, গবেষণার ফল বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে আসা এবং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

তবে শিক্ষামন্ত্রী গবেষণা বাজেট বাড়ানোর কথা জানালেও রোববারের বক্তব্যে নতুন বরাদ্দের নির্দিষ্ট পরিমাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা কিংবা এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এর বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর।