নবান্নের মৌসুম আসতে এখনো দেরি। এর মধ্যেই দিনাজপুরের বীরগঞ্জে শুরু হয়েছে আগাম আমন ধান কাটা। স্বল্পমেয়াদি ব্রি ধান-৭৫ চাষ করে আশ্বিন মাসেই ফসল ঘরে তুলছেন কৃষকেরা। এতে জমি দ্রুত খালি হওয়ায় শীতকালীন ফসল আবাদেও বাড়তি সময় পাওয়া যাচ্ছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ি গ্রামে কৃষক মো. রশিদুল ইসলামের জমিতে ব্রি ধান-৭৫ কাটার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়। একই দিনে উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের প্রেমবাজার গ্রামে কৃষক জ্যোতিষ রায়ের জমিতেও ধান সংগ্রহের কার্যক্রম চলে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, গত বছর জেলায় ব্রি ধান-৭৫ পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছিল। ভালো ফলন পাওয়ায় এবার আবাদ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলার ১৩টি উপজেলার নির্বাচিত কৃষকদের মধ্যে সীমিত পরিমাণে এই জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে, চলতি মৌসুমে বীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনা ধান-১৭, ব্রি ধান-৭৫ ও ব্রি ধান-৮৭।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এসব আগাম জাতের ধান রোপণের প্রায় ১১০ থেকে ১১২ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা যায়। মাঠপর্যায়ে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৫ দশমিক ২৪ থেকে ৫ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আগাম আমন ধানের কাটা ও মাড়াই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আগাম ধান চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা জমি দ্রুত খালি হওয়া। সাধারণত আমন ধান সংগ্রহের পর শীতকালীন ফসল চাষের প্রস্তুতি নিতে হয় কৃষকদের। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি জাত ব্যবহার করলে আগেভাগেই জমি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ধান কাটার পর এসব জমিতে আলু, সরিষা, ভুট্টা ও গম চাষ করা যাবে। সঠিক সময়ে পরবর্তী ফসলের আবাদ শুরু করতে পারলে দুই ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে।

দিনাজপুর দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী জেলা। এখানে আমনের পাশাপাশি আলু, গম, ভুট্টা ও সরিষার আবাদও হয়। ফলে আগাম আমন ধান চাষের মাধ্যমে জমির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ দেখছে কৃষি বিভাগ।

তবে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুধু আগাম ধান চাষই যথেষ্ট নয়। সময়মতো জমি প্রস্তুত, উপযুক্ত বীজ নির্বাচন, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন। এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

বীরগঞ্জে এবার আশ্বিন মাসেই ধান ঘরে ওঠায় কৃষকেরা শীতকালীন আবাদ শুরু করার সময় পাচ্ছেন। আগাম জাতের ধানের ফলন ও পরবর্তী ফসলের উৎপাদন সন্তোষজনক হলে আগামী মৌসুমে এ ধরনের আবাদ আরও সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে।