আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার পাওয়া নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তির অভিযোগ বাড়ছে। সরকারি হিসাবে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত দামে ইউরিয়া, DAP, TSP ও MOP সার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন কৃষকেরা।

রাজশাহী ও যশোরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত ডিলারের দোকানে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ একই সার খোলাবাজারে সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলায় সার অন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়া এবং বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন ডিলারকে জরিমানাও করা হয়েছে।

সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্যে ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়ার দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। তবে রাজশাহীর কিছু কৃষক প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং DAP ১ হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে কেনার কথা জানিয়েছেন।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতেও সারের বরাদ্দ ও বিতরণ নিয়ে কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত কৃষকের বদলে ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসন এক বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে। এর আগে সার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি ডিলারের গুদাম থেকে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে।

তবে সরকারি নথিতে সার মজুতের ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। আগস্টে সারা দেশে TSP-এর চাহিদা ৬৯ হাজার মেট্রিক টনের বিপরীতে মজুত ছিল ৩ লাখ ৩৭ হাজার টন। DAP-এর চাহিদা ৮৯ হাজার টনের বিপরীতে মজুত ৩ লাখ ২৭ হাজার টন এবং MOP-এর চাহিদা ৭৮ হাজার টনের বিপরীতে মজুত ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার টন।

কৃষি অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ বলছেন, সমস্যাটি শুধু সার না থাকার নয়; বরং ডিলার পর্যায়ে সময়মতো উত্তোলন, সরবরাহ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত না হওয়াই বড় কারণ। অনুমোদিত দোকানে সার না পাওয়া অথচ পাশের বাজারে বেশি দামে পাওয়া যাওয়ার ঘটনাকে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তারা।

আমন মৌসুমে ঠিক সময়ে সার না পেলে উৎপাদন খরচ ও ফলন—দুই ক্ষেত্রেই কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই পর্যাপ্ত মজুত থাকার পাশাপাশি সেই সার সঠিক সময়ে নির্ধারিত দামে প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।