বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলোতে আবার উৎপাদন শুরু হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ৯টিতে বর্তমানে আংশিক উৎপাদন চলছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
বিজেএমসি জানিয়েছে, বাকি আটটি মিল চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। ৯টি চালু মিল পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা এবং অন্য মিলগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা গেলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বর্তমানে উৎপাদনে থাকা মিলগুলোর মধ্যে রয়েছে নরসিংদীর বাংলাদেশ জুটমিলস ও ইউএমসি জুটমিলস, যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিলস, খুলনার দৌলতপুর, ইস্টার্ন, খালিশপুর ও ক্রিসেন্ট জুটমিলস, চট্টগ্রামের মিলস ফারনিশিংস এবং রাজশাহীর রাজশাহী জুটমিলস।
এর আগে জুলাইয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন, উৎপাদন শুরু করা ৯টি মিল থেকে দৈনিক প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে এবং এসব মিল প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। তখন ২৫টি বন্ধ পাটকলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বন্ধ রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত শিল্পসম্পদ কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে।
পাটকল পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় নতুন বিনিয়োগও আসছে। আগস্টে জাতীয় জুট মিলস, স্টার জুট মিলস ও প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লিজ চুক্তি হয়। প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের এসব প্রকল্পে অন্তত ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিজেএমসির তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির অধীনে মোট ২৫টি পাটকল ছিল। এর মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ১৭টির লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি তিনটি মিলও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তবে সব বন্ধ মিলকে একই প্রক্রিয়ায় ফেরানো হচ্ছে না। ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি ও খুলনার আলিম জুটমিলস নিয়ে মামলা চলছে।
সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলও লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় চালুর প্রস্তুতিতে রয়েছে। বিজেএমসি আশা করছে, সেখানে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে।
২০২০ সালে বিজেএমসির ২৫টি পাটকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বেসরকারি ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের। তবে সব মিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে প্রায় ৫০ হাজার কর্মসংস্থান হবে—এটি সংশ্লিষ্টদের সম্ভাব্য হিসাব, নিশ্চিত সংখ্যা নয়।



