বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর ২০২৬ সালের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্যোগে এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণায় অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত তালিকার তথ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর। একই মূল্যায়নে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্থান অর্জন করেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

গবেষকদের প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ, সাইটেশন বা গবেষণাকর্মের উদ্ধৃতি, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহলেখকদের গবেষণাগত প্রভাবসহ একাধিক সূচকের ভিত্তিতে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

এবারের তালিকায় স্থান পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষক ও গবেষক হলেন মো. রাকিবুল হক, আবদুস সালাম, মো. মাহবুবুর রহমান, তসলিম উর রশিদ, মুহাম্মদ ইব্রাহিম শাহ, এম. রেজাউল ইসলাম, সুবর্ণ বড়ুয়া, নেপাল চন্দ্র রায়, মো. কাওসার আহমেদ, সৈকত মিত্র এবং এম. এ. বি. এইচ. সুসান।

অন্যরা হলেন মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম, মো. আবদুস সালাম, খন্দকার সামাহের সালেম, মোহাম্মদ ফেরদৌস, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, মো. আব্দুর রাজ্জাক, এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল, মো. আবদুর রশীদ এবং অর্ক জ্যোতি চক্রবর্তী।

প্রকাশিত তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মধ্যে মো. রাকিবুল হকের বৈশ্বিক অবস্থান ৪৬ হাজার ১০৪তম এবং আবদুস সালামের অবস্থান ৫৩ হাজার ৫০৩তম। এ ছাড়া মো. মাহবুবুর রহমান ৫৬ হাজার ২৫৫তম, তসলিম উর রশিদ ৬৭ হাজার ৪৯তম এবং মুহাম্মদ ইব্রাহিম শাহ ৬৭ হাজার ২৮০তম অবস্থানে রয়েছেন।

গবেষকদের আন্তর্জাতিক প্রভাব মূল্যায়নে সাইটেশন ও এইচ-ইনডেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো গবেষণাপত্র অন্য গবেষণায় কতবার ব্যবহৃত বা উদ্ধৃত হয়েছে, তার একটি পরিমাপ হলো সাইটেশন। অন্যদিকে গবেষকের প্রকাশনার সংখ্যা ও সেগুলোর উদ্ধৃতির সমন্বিত চিত্র তুলে ধরে এইচ-ইনডেক্স।

তবে শীর্ষ ২ শতাংশের এই তালিকা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান বা সব গবেষকের দক্ষতার সরাসরি মূল্যায়ন নয়। এটি নির্দিষ্ট গবেষণা সূচকের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত গবেষণাগত প্রভাব পরিমাপের একটি পদ্ধতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষক ও গবেষকের স্থান পাওয়া আনন্দ ও গর্বের বিষয়।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের প্রতিফলন।

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি গবেষক যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যেও কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অর্জন দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা অবকাঠামো, অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ২২ গবেষকের অন্তর্ভুক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকর্মের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের তরুণ গবেষকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।