বেতন ও ভাতা বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি একপর্যায়ে মৌচাক এলাকায় মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, চালকসহ বিভিন্ন গন্তব্যের মানুষ।

যেভাবে শুরু হয় বিক্ষোভ

পুলিশ ও শ্রমিকদের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কালিয়াকৈরের এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেডের শ্রমিকেরা সকালে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন। সকাল ১১টার দিকে শ্রমিকদের একটি অংশ মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উঠে অবরোধ শুরু করেন।

বিক্ষোভে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা যোগ দেন। তাঁদের কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের উভয় দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে যানজটের বিস্তার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।

কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা

বিক্ষোভ চলাকালে আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার ফটকে ইটপাটকেল ছোড়ার খবর পাওয়া গেছে। শ্রমিকেরা অন্য কারখানার কর্মীদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় কয়েকটি কারখানা সাময়িক ছুটি ঘোষণা করে।

এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে মহাসড়কে আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। তবে এ ঘটনায় হতাহত হওয়ার কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় পুলিশ

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিকেরা বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিতে শিল্প পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করেন।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। পুলিশ সূত্রে আরও বলা হয়, সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতি পর্যন্ত শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়।

দুপুরে অবরোধ প্রত্যাহার, যান চলাচল স্বাভাবিক

জাগো নিউজের ইংরেজি সংস্করণ ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তবে বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের দাবির নিষ্পত্তি এবং কারখানাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে পরবর্তী আলোচনার দিকে নজর রয়েছে।

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের এই কর্মসূচিতে একদিকে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমাধান খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।