বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ এখনো কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, চাকরির বাজারে প্রবেশ করা প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন কর্মহীন। ফলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও অনেক তরুণের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, শ্রমবাজারের চাহিদা ও শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়তে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শিল্পখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের অভাব চাকরির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে।

দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন। তবে সরকারি ও বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে চাকরির অপেক্ষায় থাকছেন।

বর্তমানে প্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক কাজ এবং নতুন ধরনের পেশার চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে তরুণদের কর্মদক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে শুধু চাকরির সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।