বাংলাদেশ ও ভারতের অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নিয়মিত সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি। পানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, পরিবহন ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে পারস্পরিক আস্থা। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে যেসব বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াই সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে পানি বণ্টন, বাণিজ্য, সীমান্ত, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় রয়েছে। এসব ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে একাধিক পর্যায়ে বৈঠক ও আলোচনা হয়ে আসছে।

পানি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গঙ্গার পানি বণ্টন। এর বাইরে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্য ও যোগাযোগের বিভিন্ন বিষয়ও নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় উঠে আসে।

যোগাযোগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের আলোচনায় এসেছে।

সংস্কৃতিও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ রয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত যোগাযোগ ও আস্থার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। অর্থাৎ কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলেও তা আলোচনার টেবিলে রেখে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

তবে হাইকমিশনারের বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে দুই দেশের সব অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত সমাধান হয়ে যাচ্ছে। বরং বিদ্যমান মতপার্থক্য মোকাবিলায় সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, বিশেষ করে পানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।