ঢাকা কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন করে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং ঢাকা থেকে কলকাতা যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা কমে আসতে পারে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আলোচনায় মৈত্রী এক্সপ্রেসের নতুন রুট নিয়ে বিষয়টি উঠে এসেছে। বর্তমানে ট্রেনটি দর্শনা সীমান্ত হয়ে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নতুন রুটে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই অবকাঠামো ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
রেল কর্মকর্তাদের আলোচনায় যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যাত্রী চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে রুট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং পরিচালনাগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ঢাকা কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। ২০০৮ সালে চালু হওয়া এই ট্রেন দুই দেশের যাত্রীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
নতুন রুট চালু হলে শুধু যাত্রার সময় কমবে না, পাশাপাশি পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যবহারও বাড়বে। এতে পর্যটন, ব্যবসা এবং দুই দেশের মানুষের যাতায়াতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রেল যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রেল সেবা সম্প্রসারণের জন্য আধুনিক অবকাঠামো, সহজ সীমান্ত প্রক্রিয়া এবং নিয়মিত পরিচালনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে হবে।
পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা কলকাতা ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি দুই দেশের রেল যোগাযোগে নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।