পুঁজিবাজারের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)। এর অংশ হিসেবে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব অর্থপাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা AML (Anti-Money Laundering) compliance কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

BFIU-এর নির্দেশনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকি বিবেচনায় লেনদেন পর্যবেক্ষণ, গ্রাহকের তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয়। এসব লেনদেনে অবৈধ অর্থের ব্যবহার, সন্দেহজনক কার্যক্রম বা অর্থপাচারের ঝুঁকি কমাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নজরদারি বাড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতে AML ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকলেও পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী কাঠামো প্রয়োজন ছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের compliance ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কার্যকর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর প্রক্রিয়াও জোরদার করতে হবে।

অর্থপাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের অংশ হিসেবেও এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে স্বচ্ছ লেনদেন ও শক্তিশালী compliance কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকির ওপর।

BFIU-এর এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর আর্থিক কার্যক্রম আরও নিয়মতান্ত্রিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি আরও বাড়বে।